বুধবার,৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা প্রাণসায়র খালের ধারে পৌরসভার কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ, সংকটে প্রাণসায়রের খাল

সাতক্ষীরায় আদালতের রায় কে উপেক্ষা করে প্রাণসায়রের খালের ধারে আবারও পৌরসভার কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। ফলে খালটি স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারিয়ে ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগের কসাইখানার টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে সুলতানপুর বড় বাজারে সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।”
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরজমিনে প্রদক্ষিণ করে দেখা যায় খালের পাড়ে কসাইখানার বর্জ্য ময়লার স্তুপ হয়ে জমে আছে। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এই খালটি সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ আসপাশের এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় এ খালটি শহরবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দীর্ঘদিন দূষণ ও দখলের কারণে খালটি মরে গেলেও বিগত জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের প্রচেষ্টায় খালটি আবারও প্রবাহমান হয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৪০ সালে রাজা প্রাণনাথ রায় চৌধুরী কলকাতার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের উদ্দেশ্যে এই খাল খনন করেছিলেন। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এ খাল শুধু জলধারাই নয়, শহরের সৌন্দর্য ও ভারসাম্যের অন্যতম প্রতীক।
শহরবাসীর দাবি—এই খালকে আবারও দূষণের মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, খালের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সাতক্ষীরাবাসীর প্রত্যাশা—প্রাণসায়রের খাল যেন আবারও ভাগাড়ে পরিণত না হয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জন্য এটি সংরক্ষিত থাকে।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দেওয়ানিয়া ১৩১/২৪ নং মামলা চলমান আছে।বিজ্ঞ আদালত উক্ত জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন