শুক্রবার,১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে করণীয়

সভ্য সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের প্রধান শর্ত নারীর নিরাপত্তা এবং সমঅধিকার। বর্তমান ডিজিটাল যুগে নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল শারীরিক বা মানসিকভাবেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সাইবার জগতেও ছড়িয়ে পড়েছে। একটি প্রগতিশীল ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার সহিংসতা দূর করা এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
সহিংসতার বর্তমান স্বরূপ ও কারণ
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি:
পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীকে দুর্বল ভাবার প্রবণতা।
আইনের প্রয়োগে ধীরগতি: বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
সাইবার অপরাধ:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
সচেতনতার অভাব: অনেক নারীই তাদের আইনি অধিকার এবং জরুরি সহায়তা সেবা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন।
সহিংসতা প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে রাষ্ট্র ও সমাজের করণীয়
১. আইনের কঠোর ও দ্রুত বাস্তবায়ন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। প্রতিটি মামলার বিচার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. প্রযুক্তি ও স্মার্ট নজরদারি: পাবলিক প্লেস, গণপরিবহন এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। ‘জয়’ (Joy) মোবাইল অ্যাপের মতো জরুরি সেবাগুলোর প্রচার ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে হবে।
৩. সাইবার নিরাপত্তা জোরদার: সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়ামাত্র দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. আইনি সহায়তা সহজীকরণ: সরকারি আইন সহায়তা কেন্দ্র (জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০) এবং জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর কার্যকারিতা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। ভুক্তভোগী নারীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি ও মানসিক কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।
৫. পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা: শৈশব থেকেই পরিবারে ছেলে ও মেয়ে সন্তানকে সমমর্যাদার শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেন্ডার সমতা এবং নৈতিকতার পাঠ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
৬. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: নারীদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী নিজের অধিকার রক্ষায় বেশি সোচ্চার হতে পারেন।
উপসংহার:
নারীর প্রতি সহিংসতা মুক্ত সমাজ গঠন কোনো একক পক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রয়াস। নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমরা একটি সত্যিকারের মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠন করতে পারব।
প্রবন্ধক: যাদব চন্দ্র রায়
তারিখ: ১৮ মে, ২০২৬

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন