ব্ল্যাকমেইলিং করে মাদরাসা শিক্ষকের ভিডিও ধারণ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় নিরিহ এক মাদরাসা শিক্ষককে ব্ল্যাকমেইলিং করে তার অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে প্রায় ৮মাস পর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার ওই শিক্ষকের নাম গোলাম মোস্তফা, তিনি বসন্তকেদার দাখিল মাদরাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট। ঘটনার ৮ মাস পর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় এটাই প্রমাণ হয় এটা পরিকল্পিত, সাজানো ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। কারণ ঘটনা যদি সত্যি ঘটেই থাকে তাহলে তখন-ই প্রকাশ করা বা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলো না কেন ? আবার ঘটনারও কোনো অভিযোগ  নাই তার পরেও অতিউৎসাহী হয়ে ভিডিও ভাইরাল করায় এটাই প্রমাণ হয় এটা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও গভীর ষড়যন্ত্র। এছাড়াও ৫৫ বছর বয়সী একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের পক্ষে কি এমন কাজ করা আদৌ সম্ভব ? দীর্ঘদিন পর এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ভিডিও চিত্রে রঙচঙ লাগিয়ে প্রচার করা কতটা যৌক্তিক বা নৈতিক সবার কাছে প্রশ্ন ভুক্তভোগী শিক্ষকের।এটা নীতিনৈতিকতার পরিপন্থী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। এখন প্রশ্ন হলো এটা যদি প্রমাণ হয় মিথ্যা তাহলে  শিক্ষক পরিবারের সম্মান ফিরিয়ে দিবে কে ?
এদিকে এই ভিডিও ভাইরাল হবার পর পরই জনমনে চরম অসন্তোষের পাশাপাশি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল একজন বয়োবৃদ্ধ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন মানহানিকর ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা চরম দায়িত্বহীনতা।এছাড়াও এনিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নাই,এমনকি কোনো নারীর সঙ্গেও তাকে দেখা যায়নি। অভিযোগ বা ভিকটিম ব্যতিত এমন প্রচারণাকে অনেকে তথ্য সন্ত্রাস বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর একটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি দাবি করেন পবার এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় দোয়া মাহফিলের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে  আটকে রেখে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও চাঁদা দাবি করা হয়।কিন্ত্ত চাঁদা না পেয়ে ৮ মাস পরে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। গোলাম মোস্তফা জানান, চলতি বছরের ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীসহ কয়েকজন পুরুষ  তাঁকে ফোন করে তাঁদের বাড়িতে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। সরল বিশ্বাসে ১৯ জানুয়ারি রাতে তিনি এয়ারপোর্ট থানার নিদ্রিষ্ট স্থানে যান। সেখানে পৌঁছালে এক নারী ও পুরুষ তাঁকে কৌশলে একটি দোতলা বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্ত্ত ওই বাড়িতে আগে থেকে অবস্থান করা ৪-৫ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক তাঁর পরনের পোশাক খুলে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। ঘটনার সময় শিক্ষক কৌশল অবলম্বন করে তাঁর ছেলেকে ফোন দিলে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানান। থানা পুলিশকে অবহিত করা হচ্ছে জানতে পেরে অভিযুক্তরা তাঁকে ছেড়ে দেয়। ঘটনার পর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি রাজশাহী মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।কিন্ত্ত অভিযোগের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ  আসামিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষক আরও জানান, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর গত ২ সেপ্টেম্বর ওই চক্রটি নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে শিক্ষককে ফোন করে ওই ভিডিওর কথা বলে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। তারা তাঁকে বারবার দেখা করতে বলেন এবং ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
গোলাম মোস্তফার দাবি, প্রকাশিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায় ঘটনাটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চক্রটির সঙ্গে আঁতাত করে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইলে জড়িত চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন