মঙ্গলবার,২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গুড়ায় মববাজি ও সন্ত্রাসী কায়দায় দোকান ঘর ভাংচুর হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পাবনার ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে জমির বৈধ কাগজ পত্র থাকা স্বত্তেও উপজেলার পাটুলী পাড়া গ্রামের রুবেল রিপন,নাঈন, সাদ্দাম ও বক্কার গংদের  কর্তৃক মববাজি ও সন্ত্রাসী কায়দায় পিতার ক্রয়কৃত জমি, জেলা পরিষদ থেকে লীজকৃত জমি এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া জমিতে নির্মিত দোকান ঘর ভাংচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পাটুলী পাড়া গ্রামের মোঃ ইউনূছ আলী সরকার পরিবারের পক্ষে ছেলে রাজীব আহমেদ।
সোমবার (২৭এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে জমির সকল কাগজ পত্র উপস্থাপন শেষে লিখিত বক্তব্যে  রাজিব আহমেদ বলেন,পিতার নামীয় ক্রয়কৃত জমি ( আর এস দাগ নং ২৮৫৩/২৮৫৫ এর ৩৯ এর অংশ থেকে ৭শতাংশ, পাবনা জেলা পরিষদের  আর এস ২৮৬০ দাগে৩শ’৮০ বর্গফুট বৈধভাবে লীজ নেওয়া হয়েছে। গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকসেদুর রহমানকে সরকার কর্তৃক ১ নং খতিয়ানের বন্দোবস্ত প্রাপ্ত আর এস ২৮৫৪ দাগে ৪০ এর কাতে ৭ শতাংশ সম্পত্তি মৌখিক আমাদের দেখাশোনা করতে দেওয়া মিলে মোট ১৪.৮৭ শতাংশ জায়গার সামনে স্থাপনা নির্মাণ(ঘর তুলে)করে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ ভোগ দখল করিয়া আসিতেছি।
গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উক্ত ভোকদখল কৃত সম্পত্তি পূর্বের জের ধরে একই গ্রামের নাঈম,সাদ্দাম, বক্কার ও রিপন গং বড় ভাই মোঃ আব্দুল মজিদ মানিককে মারপিট করে জখম করে।এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে থানা পুলিশের তৎপরতায় এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃতি করবে না মর্মে অভিযুক্ত গং থানায় মুচলিকা দিয়ে আসে।এ ঘটনার পর পরই মববাজী ও সন্ত্রাসী গং গত ১৮ এপ্রিল পুনরায় আমাদের একটি টিনের ঘর ভেঙে ফেলে জায়গা দখলের চেষ্টা নেয়। পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেবে পুনরায়  থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইন শংখলা অবনতি  বা মববাজি দখল ভাংচুর না করতে প্রতি পক্ষকে  নির্দেশ দেন। তার পরে ওই মববাজী ও সন্ত্রাসী গ্রুপ উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিত ভাবে রাতের আঁধারে আমাদের উৎখাতের জন্য মানববন্ধন করে।
সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল সকালে মববাজি ও সন্ত্রাস সৃষ্টি আমাদের দোকান ঘর ভাংচুর করার হুমকি দিয়ে ওই রাতেই সাড়ে আটটার দিকে রুবেল, রিপন ও সাদ্দামের  নেতৃত্তে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র,লাঠি শোঠা, সাবল, হাতুড়ি নিয়ে সংঘ বন্ধ হয়ে মব সৃষ্টি করে তিনটি দোকান ঘর ভাংচুর করে বিনষ্ট করে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।ঘটনার বিষয়টি ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) কে জানালে উভয়ই তৎক্ষণিক ঘটনা স্থলে গিয়ে মববাজী গংদের সড়িয়ে দিয়ে আমাদের জানমালের নিরাপত্তায় সহযোগিতা করেন। এই মব সন্ত্রাসের কারণে আমি ও আমার পরিবারের সকল সদস্য চরম নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছি।আমার পিতা মোঃ ইউনূস আলী সরকার নামীয় ১৪.৮৭ শতাংশ  সম্পত্তি,তাদের দাবি,সব মব-সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বন্ধ করা,জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাকিউল আযম বলেন,ভোক্তভোগি পরিবারের  সাথে এলাকার লোকজনের মধ্যে  জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়ে  আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য একাধিক বার  ঘটনা স্থলে গিয়েছি পরিস্থিতি শান্ত করেছি।যদিও সম্পত্তির বিষয়ে পুলিশের আইনে করার কিছুই নাই।সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি দেখা শুনা করছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান জানান, পাটুলি পাড়ার ওই বিরোধপূর্ণ জায়গাটি জেলা পরিষদের। তবে দুটি পক্ষ মুখোমুখি হওয়ায় আইনশৃংখলা পরিস্থতির আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে পুলিশ ফোর্সসহ  তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি ফিরে আসেন।
তিনি আরো বলেন, সম্পত্তির দাবি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কর্তৃত্ব জেলা পরিষদের রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন