রাজশাহীর তানোরে গত শনিবার রাতভর টানা ভারি বর্ষণে নিচু এলাকায় অবস্থিত বেশ কিছু গুচ্ছগ্রামে হাঁটু পানি জমেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রাতে হঠাৎ এমন ভারী বৃষ্টিতে অসহায় দরিদ্র অনেক পরিবার গ্রামের বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। তানোর উপজেলার নিচু এলাকার ধানের জমিতে তৈরি করা গুচ্ছ গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি ঘরেই পানি প্রবেশ করেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।
সরেজমিন রোববার (৬ সেপ্টেম্বর)
দুপুরে উপজেলার কোয়েলহাট উত্তর পাড়া গুচ্ছগ্রামে দেখা গেছে, প্রায় ২০টি বাড়ির সবগুলো ঘরেই পানি প্রবেশ করেছে। এবং চার পার্শ্বে পানি থৈ থৈ করছে। এতে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলো গ্রামের উচু এলাকার মানুষের বাড়িতে ও উঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। আবুল কাশেম নামের এক ব্যাক্তি বলেন, রাতের হঠাৎ প্রচুর বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরে ঢুকতে শুরু করে পানি। তাড়া হুড়ো করে সবাই বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিই।
তিনি বলেন, নিচু এলাকা হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই চার পাশে পানি জমে যায় আর ভারি বৃষ্টি হলে পানি ঘরে ঢুকে যায়। আব্দুল জব্বার জানান, গুচ্ছগ্রাম গুলো নিচু এলাকার ধানী জমিতে তৈরি করায় প্রতিবছরই বর্ষার সময় পানি উঠে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে দরিদ্র শ্রেনীর মানুষগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সহায় সম্বলহীন দরিদ্র এই পরবার গুলো চরম কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। সরকারী ভাবে সহায়তা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, খবর পেয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মফিজ উদ্দিনকে পাঠিয়েছিলাম। বর্তমানে গুচ্ছ গ্রামের ঘরগুলো থেকে তারা গ্রামের বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কয়েকদিন সময় লাগবে তাদের গুচ্ছগ্রামের ঘরে ফিরতে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ও পিআইও সাহেবকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্য এলাকার ঘরে পানি ঢোকার খবর পাননি বলেও জানান তিনি।তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, কোয়েল উত্তরপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের গুচ্ছগ্রামের বাড়ি গুলোতে পানি ঢোকার খবর পেয়েছি সরকারী ভাবে সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।



