বৃহস্পতিবার,২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরের আলোচিত প্রধান শিক্ষক আমিরুলের গুরুপাপে লঘুদণ্ড

রাজশাহীর তানোরের কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক আওয়ামী মতাদর্শী  আমিরুল ইসলামকে গুরু পাপে লঘুদন্ড দেয়া হয়েছে।এনিয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ  ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ফরম পুরুণে ২৭০০ টাকা,কোচিং ক্লাস ফি ২০০০ টাকা ও প্রবেশপত্র আটকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা টাকা অবশেষে ফেরত ও লিখিত বক্তব্য দিয়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম।স্থানীয় অভিভাবক মহল, অভিযুক্ত শিক্ষক আওয়ামী মতাদর্শী  আমিরুল ইসলামকে অপসারণের দাবি করেছেন।
এদিকে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সচেতন মহল ও অভিভাবকগণের দাবি  অভিযুক্ত শিক্ষকের বেতন বন্ধসহ দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। যা দেখে অন্যরা সতর্ক হয় তা না হলে অন্যরাও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করবে ধরা পড়লে ফেরত দিয়ে রক্ষা পাবে।
জানা গেছে, গত সোমবার (২০এপ্রিল) সকালে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক  আমিরুল ইসলাম তাদের কাছে টাকা ফেরত দেন। এসএসসি  পরীক্ষার্থীদের কাছে থেকে কোচিং ক্লাসের নামে ২ হাজার ও প্রবেশপত্র ফি বাবদ ৫০০ টাকা করে নেয়া হয়েছিল।তবে কয়েকজন পরীক্ষার্থী এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে টাকা না নিয়েই চলে যায়।এর আগে গত রোববার (১৯এপ্রিল) রাতে প্রধান শিক্ষক প্রতিটি পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে এসেছেন।এসবের নেপথ্যে রয়েছে ইউপি বিএনপির এক নেতা ও সাবেক সভাপতি বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
অথচ ফরম পুরুনের বোর্ড নির্ধারিত টাকা ছাড়া কোন অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার যাবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন,সাবেক সভাপতির নেপথ্যে মদদে এবং প্রধান শিক্ষক আমিরুলের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক অভিভাবকদের ভয়ভীতি ও শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিং করতে বাধ্য করছেন।
এবিষয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ,ন,ম মোফাখখারুল বলেন,প্রবেশপত্র দিতে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন,কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,কোচিং ক্লাসের টাকা অভিভাবকগণের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হয়েছে।তিনি বলেন,, কোচিং ক্লাসের  টাকা ও প্রবেশপত্র বাবদ নেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।#
এবিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার সায়মা আঞ্জুমানের মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  ও তানোর উপজেলার  অতিরিক্ত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) এসএম মাহমুদ হাসানের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।এবিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কোন অভিভাবক বা শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হয় পরীক্ষার নামে বিভিন্ন কায়দায় এত পরিমান টাকা আদায়ের ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না তিনি জানান, আমি ছুটিতে আছি, ছুটি শেষ হলে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) নাঈমা খান জানান, বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষক চিঠির মাধ্যমে তলব করা হয়েছিল। সে লিখিত জবাব দিয়েছে। সে মোতাবেক লিখিত জবাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, সেখান থেকে যেমন নির্দেশনা আসবে সে ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন এধরনের কাজ আর কখনো হবে না এবং কোচিংয়ের জন্য নাকি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে মিটিং করে রেজুলেশনের মাধ্যমে কাজ করা হয়েছে বলে অবগত করেছেন।
প্রঙ্গগত, রোববার (১৯এপ্রিল) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে স্কুল চত্ত্বরে অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে, এসময় কৌশলে প্রধান শিক্ষক সটকে পড়েন। পরে সাবেক সভাপতির আহবানে প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসেন।এ সময় স্কুলের অফিস কক্ষে ব্যাপক হট্রগোলের সৃস্টি হয়। প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতির মারমুখী আচরণে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন