কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে দিনদুপুরে এই বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। উল্টো প্রভাবশালীদের অপরাধ আড়াল করতে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার ওপর দোষ চাপানোর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। উত্তোলিত বালুগুলো কোনো লুকোছাপা ছাড়াই সরাসরি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে এবং সেখান থেকেই প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
প্রভাবশালীদের আড়াল করতে অপপ্রচার
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালি উত্তোলনকারী চক্রটি অত্যন্ত প্রভাবশালী। তারা বালি উত্তোলনের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সুকৌশলে একে ‘পাহাড়ি বালি’ হিসেবে প্রচার করছে এবং গণমাধ্যমে বিট কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। মূলত নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই বনবিভাগকে এর সাথে জড়ানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম, শাহজাহান ও ব্যবসায়ী বেলালসহ অনেকে জানান:
“গাজালিয়া খাল থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই খালের সঙ্গে বনবিভাগের জায়গা বা রাজঘাট বিটের কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই। একটি চক্র নিজেদের ফায়দা লুটতে বনবিভাগের ওপর দায় চাপাচ্ছে।”
এ বিষয়ে রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান:
“গাজালিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই নদীর সাথে রাজঘাট বনবিট বা বন বিভাগের কোনো প্রশাসনিক বা ভৌগোলিক সম্পর্ক নেই। যেহেতু এই বালু সড়ক ও মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে, তাই এটি দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলের।”
অবৈধ এই বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশগত হুমকির পাশাপাশি সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী



