ভারতের দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন পুলিশ মারধর করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। খবর দ্য হিন্দুর
সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানান। এ সময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হন।
অখিলেশ যাদব আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার তাদের মন্ত্রীদের পদত্যাগে বাধ্য করতে পারছে না। তার দাবি, ‘সরকার জানে, মন্ত্রীদের ওপর পদত্যাগের চাপ দিলে তারা এই সরকারের নানা গোপন তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারেন’।
সোমবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। দিল্লিতে গত প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম বড় সড়ক বিক্ষোভ।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য, যাদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ‘উচ্ছৃঙ্খল ও সহিংস আচরণ’ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে আন্দোলনের আয়োজকরা পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন, শত শত আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক দিন। ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিল্লি পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক হলেও সরকার এখনো তাদের দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বাতিল হওয়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) নতুন করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নেওয়া হয়। এতে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা দেশজুড়ে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলে।


