গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় জমি হস্তান্তর ও রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে উৎস করের আওতা ও হার বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি জারি হওয়া গেজেট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এতে পূর্বের উৎস কর বহাল থাকার পাশাপাশি হেবা ও দানপত্রের মাধ্যমেও সম্পত্তি হস্তান্তর উৎস করের আওতায় আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসন, রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি ও মতামত তুলে ধরা হলেও কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং নতুন গেজেটের মাধ্যমে করের পরিধি আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, এতদিন হেবা ও দানপত্রের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি তুলনামূলক সহজ সুযোগ ছিল। নতুন বিধান কার্যকর হলে সেই সুযোগও সীমিত হয়ে যাবে এবং সম্পত্তি হস্তান্তরে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, উৎস করের বাড়তি চাপের ফলে কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, বিদেশ গমন, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং হজ ও ওমরাহ পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, কালীগঞ্জের মানুষের ওপর আরোপিত উচ্চহারের উৎস কর পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য ও জনবান্ধব সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন গেজেট প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার আগে কর কাঠামো নিয়ে পুনরায় আলোচনা ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কালীগঞ্জবাসী।



