বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্পাদক ও তরুণ নেতৃত্বের আইডল মাহফুজুর রহমান রিটন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
এদিকে দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে পেছনে ফেলে মাত্র ৪৮ বছর বয়সেই রাজশাহীর মাহফুজুর রহমান রিটন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় তৃণমুলের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে।
তরুণ এই নেতা তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্ররাজনীতি দিয়েই।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে ১৯৯৫-৯৬ সেশনে মানবিক বিভাগে অধ্যয়নকালে ক্লাস কমিটির সভাপতি হিসেবে রিটনের রাজনৈতিক জীবনের শুরু। পরে তিনি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ছাত্রদলের রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
এদিকে ছাত্রদলের রাজনীতি শেষে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন মাহফুজুর রহমান রিটন। ২০১৬ সালে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৭ সালে মহানগর যুবদলের সম্পাদক এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এরপর ২০২৫ সালে মহানগর যুবদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্পাদক নির্বাচিত হন।
মাহফুজুর রহমান রিটন ১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী শহরের হেতমখাঁ এলাকায় বসবাস করছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি (অনার্স)। দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে তিনবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদ নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতার মধ্যে আলোচনা ও তৎপরতা শুরু হয়। প্রশাসক পদে আলোচনায় ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা এবং আবুল কালাম আজাদ সুইটও।
কিন্ত্ত শেষ পর্যন্ত সবাইকে চমকে দিয়ে তুলনামূলক কম বয়সী এই রাজনীতিককেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনা- দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন কীভাবে নগর প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পরিচালনা করেন সেটা দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।
জানা যায়, মুক্তিযদ্ধের চেতনাপুষ্ট পারিবারিক আবহে বেড়ে উঠেছেন রিটন। স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রদলের
রাজনীতিতে যুক্ত হন। রাজনীতিতে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার একটি নাম রিটন তিনি সব সময় সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সক্রিয় থেকেছেন।
ইতমধ্যে রিটন তার নেতৃত্বের গুণে গণমানুষের নেতা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে সমান জনপ্রিয় নাম রিটন। এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখনো তাকেই তাদের প্রতিনিধি মনে করেন ও তাদের যে কোন সমস্যায় ছুটে আসেন তাঁর কাছেই। সমস্যার সমাধান পাওয়া না পাওয়া বড় কথা নয়, কিন্ত্ত রিটন মনোযোগ সহকারে তাদের কথা শোনেন। রিটন বলেন, তিনি সব সময় নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন এখনও আছেন। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তি স্বার্থের উর্দ্ধে থেকে দীর্ঘসময় রাজনীতিতে দলীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছি এখনো দিয়ে যাচ্ছি, তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণ তারা কোনো লোভ-লালসায় দল, নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বেঈমানী করে না।



