মঙ্গলবার,২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল: ওটির পাশে নার্সদের রান্নাবান্না ও পিঠা উৎসব, ঝুঁকিতে নবজাতক ও প্রসূতিরা

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে চিকিৎসার চেয়ে এখন রান্নাবান্নার আয়োজনই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত অস্ত্রোপচার কক্ষের (ওটি) ঠিক পাশের একটি কক্ষকে অঘোষিত রান্নাঘরে পরিণত করেছেন কর্মরত নার্সরা। গত দুই বছর ধরে প্রসূতি ও নবজাতকদের সংক্রমণের চরম ঝুঁকিতে ফেলে সেখানে নিয়মিত চলছে গ্যাসের চুলায় রান্নাবান্না ও খাওয়াদাওয়া।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওটির পাশের একটি কক্ষে গ্যাসের চুলা, হাঁড়ি-পাতিল ও বিভিন্ন রান্নার সামগ্রী মজুত রেখেছেন নার্সরা। সেখানে ভাত-তরকারি রান্নার পাশাপাশি চলছে শীতের পিঠা তৈরির আয়োজন। রান্নার সময় কক্ষের দরজা খোলা রেখে নার্সরা অবাধে যাতায়াত করছেন অস্ত্রোপচার কক্ষ ও প্রসূতিদের ওয়ার্ডে। সম্প্রতি এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্রোপচার চলাকালীন সময়েও সিনিয়র ৪-৫ জন নার্সকে পাশের কক্ষে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, নার্সিং সুপারভাইজার নুরজাহান, নার্স কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম দীর্ঘ দিন ধরে এই অনিয়মের সাথে জড়িত। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্সদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্নাও এ ব্যাপারে মন্তব্য না করে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন রাকিব বলেন, “আমার বোনকে প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখানে এসে শুনছি ওটির পাশে নার্সরা রান্না করেন। দুই বছর ধরে এমনটা চললেও কেউ কিছু বলছে না, এটা ভাবাই যায় না।” রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেয়ে নার্সরা রান্নাবান্না ও গল্পগুজব নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়ম প্রসঙ্গে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম প্রথমে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও, প্রমান দেখার পর বলেন, “এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরএমও রৌকন উদ দৌলা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “ওটির ভেতর বা পাশে রান্না করা অসম্ভব ব্যাপার। এখানে সংক্রমণের বড় ঝুঁকি রয়েছে। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”

অন্যদিকে, হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো সার্জারি) মো. জামালউদ্দিন বিষয়টিকে হাসপাতালের ‘দুর্বলতা’ হিসেবে স্বীকার করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন।

ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্নার কোনো সুযোগ নেই। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ এবং এ বিষয়ে কঠোর খোঁজখবর নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা জনগণের প্রথম প্রত্যাশা থাকে ভালো আচরণ: তারাগঞ্জে নবনির্বাচিত এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম

রংপুর–২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন,