কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩নং ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ এলাকায় দেড় বছরের এক শিশুকে রেখে এক অজ্ঞাত নারী চলে যাওয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ধরলা ব্রিজ এলাকায় এক নারী তার প্রায় দেড় বছরের ছেলে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে ওই নারী স্থানীয় নাইটগার্ড মো. ফজলার রহমানের কাছে মোবাইল ফোনে কল করার জন্য ফোন চান। তবে ফোনে টাকা না থাকায় কল করতে না পারলে ওই নারী কান্নাকাটি শুরু করেন।
পরে ওই নারী জানান, তার বাবার বাড়ি কচাকাটা থানায় এবং স্বামীর বাড়ি ফুলবাড়ীতে। তিনি ক্ষুধার্ত থাকার কথা জানালে ফজলার রহমানসহ কয়েকজন তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে এক রাতের জন্য থাকার আশ্রয় চাইলে সরল বিশ্বাসে ফজলার রহমান তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ফজলার রহমান কাজে চলে যান। দুপুর আনুমানিক সাড়ে ২টার দিকে তার বড় ছেলে মো. মালেক তাকে ফোন করে জানান, ওই নারী একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন এবং শিশুটিকে নিয়ে যেতে বলেছেন।
পরে মো. মালেক বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান, ওই নারী তার দেড় বছরের শিশুটিকে ফজলার রহমানের বাড়িতে রেখে চলে গেছেন। এরপর ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ওই নারীর স্বামী নন বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকের পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শিশুটি মো. ফজলার রহমানের পরিবারের জিম্মায় রয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির প্রকৃত অভিভাবককে খুঁজে পাওয়া গেলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে তার কাছে হস্তান্তর করতে চান বলে জানিয়েছেন ফজলার রহমান।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি নথিভুক্ত রাখতে গত ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মো. ফজলার রহমান। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
