গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অনুমতি ছাড়াই কৃষিজমিতে বালু ভরাট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের দায়ে এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং পৃথক মাদক মামলায় চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) উপজেলার তিরিয়া, নাগরী ও মোক্তারপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম মোকলেছ (৩৮), পিতা- মৃত মফিজ উদ্দিন, প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়াই কৃষিজমিতে বালু ভরাট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করেন। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই দিনে পরিচালিত পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় দায়ের করা চারটি মামলায় চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের দক্ষিণ খলাপাড়া এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান (১৮), মুক্তারপুর ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে আশরাফ হোসেন সেতু (২৭), বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শাখা সরি এলাকার গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে রাকিব হাওলাদার (২৮) এবং পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. ইসরাফিল (২২)।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট পাঁচটি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং চারটি মামলায় চারজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার এসআই মো. হায়াত্তুর রহমান। বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা, অবৈধভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন প্রতিরোধ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




