গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নে মাদক, বাল্যবিবাহ, পরিবার পরিকল্পনা ও গ্রাম আদালত বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে ২০০ জন উপকারভোগীর মাঝে উন্নত জাতের আম্রপালি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টায় বক্তারপুর ইউনিয়নের বেরুয়া ঈদগাহ মাঠে উপজেলা প্রশাসন কালীগঞ্জ এবং বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আখন্দ (ফারুক)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম বলেন, “একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে বাল্যবিবাহ এবং মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। একইসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিকল্পিত পরিবার গঠন এবং গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহণ করে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নুরী, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন এবং কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু।
বক্তারা পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব, বাল্যবিবাহের ভয়াবহ সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ও সহজে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সচেতনতামূলক আলোচনা শেষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে ‘চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হয়। এ সময় বক্তারপুর ইউনিয়নের ২০০ জন উপকারভোগীর হাতে উন্নত জাতের আম্রপালি আমগাছের চারা তুলে দেন অতিথিরা। তারা প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
উপজেলা মহিলা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার-এর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত, বাল্যবিবাহমুক্ত ও আদর্শ বক্তারপুর ইউনিয়ন গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এমন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও ব্যাপক পরিসরে আয়োজনের দাবি জানান। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



