চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় সরকারি জমি, ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থাপনার কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একাধিক বিদ্যুৎ খাম্বা দোকানের ভেতরে চলে গেছে, ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসংলগ্ন মইজ্জ্যারটেক এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে রেস্টুরেন্ট, মিষ্টির দোকান, হার্ডওয়্যারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের সময় বিদ্যুতের খাম্বা দোকানের ভেতরে চলে গেলেও তা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কর্ণফুলী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের অদূরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এসব স্থাপনা থেকে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সরকারি দপ্তরের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই দখল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্ণফুলী উপকেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অরিঞ্জয় চৌধুরী বলেন, “বিদ্যুতের কয়েকটি খাম্বা দোকানের ভেতরে চলে যাওয়ায় স্থাপনা অপসারণের জন্য দখলদারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নোটিশের কোনো গুরুত্ব দেয়নি।” পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটি একাধিক সরকারি সংস্থার জমি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”
ভূমি-সংক্রান্ত নথির তথ্য অনুযায়ী, মইজ্জ্যারটেক এলাকায় আব্দুল মান্নানের নামে দুই শতক জমি থাকলেও বর্তমানে সরকারি খাস জমিসহ প্রায় ছয় শতক জায়গা দখলে রেখে সেখানে ‘আল-মদিনা হোটেল’ ও ‘আল রাফা আবাসিক হোটেল’ নামে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মালিকানাধীন ৩ দশমিক ৭৭ কাঠা জমি ইজারা নেওয়ার পর চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও ইজারা চুক্তিতে জমিটি কেবল যাতায়াতের পথ ও বাগান হিসেবে ব্যবহারের শর্ত ছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিডিএর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান বলেন, “চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে মামলা হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।”
সিডিএর অথরাইজড সেকশন-২-এর কর্মকর্তা তানজিব হোসেন বলেন, “অননুমোদিত ভবন নির্মাণ ও ইজারার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ পাওয়ায় পরবর্তী কার্যক্রম আইন শাখায় পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




