মঙ্গলবার,২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সকালের ব্যায়াম: সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনের চাবিকাঠি

আগে মানুষ সকালের সতেজ বাতাসে হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম ও যোগাভ্যাস করে দিন শুরু করতেন। কিন্তু আজকের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেরই সকালে শরীরচর্চা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে ক্রমেই। সুস্থ থাকতে যেমন পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন, তেমনি নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনও অপরিহার্য।

সকালের ব্যায়াম শরীরকে চাঙা করার পাশাপাশি মনকেও সতেজ রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দিনের শুরুতে হালকা ব্যায়াম এক ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে যা হতাশা কমায় এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ায়।

১. জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে প্রতিদিন ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুললে তা ধীরে ধীরে জীবনযাপনের অংশ হয়ে যায়। নিয়মিত সকালবেলার ব্যায়াম আপনাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখে, মনকে ফোকাসড করে এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। মাত্র দুই মাসের অনুশীলনেই আপনি পার্থক্য অনুভব করতে পারবেন।

২. পেশী শক্তিশালী করে ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় সকালে শরীরে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে, যা পেশী গঠনে সহায়তা করে। ফলে সকালের অনুশীলন পেশীকে শক্তিশালী করে এবং দৈনন্দিন কাজে শারীরিক দক্ষতা বাড়ায়। যাদের পেশী দুর্বলতার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।

৩. মানসিক চাপ ও স্ট্রেস কমায় বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ। সকালে ব্যায়াম করলে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে যায়। ফলে মন থাকে শান্ত, কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে এবং সারাদিনের পারফরম্যান্স উন্নত হয়।

৪. ঘুমের মান উন্নত করে যারা রাতে ভালো ঘুমাতে পারেন না, তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর সমাধান। নিয়মিত অনুশীলন শরীরকে ক্লান্ত করে এবং রাতে গভীর ঘুমে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে ব্যায়াম করলে ঘুমের মান সন্ধ্যার ব্যায়ামের তুলনায় বেশি উন্নত হয়।

৫. ওজন কমাতে সহায়ক ওজন কমানোর জন্য সকালে ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। খালি পেটে হালকা অনুশীলন শরীরের অতিরিক্ত চর্বি পুড়িয়ে দ্রুত ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে। নিয়মিত মর্নিং এক্সারসাইজ করলে শরীর টোনড হয় এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।

৬. ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সকালের ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত ব্যায়াম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

৭. হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক দৌড়, জগিং, এবং হালকা খেলাধুলা হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘায়ু লাভে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সকালের ব্যায়াম হৃদরোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে নিরাপদ উপায়গুলোর একটি।

৮. ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে মহামারীর পর সুস্থ থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত সকালবেলার অনুশীলন শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং ভাইরাসজনিত নানা রোগের ঝুঁকি কমায়।

৯. দীর্ঘসময় বসে কাজ করলেও শরীর থাকে সক্রিয় ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফলে শরীর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। সকালে মাত্র ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলে সারা দিন শরীরে এনার্জি বজায় থাকে এবং কাজের গুণগত মান বেড়ে যায়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা জনগণের প্রথম প্রত্যাশা থাকে ভালো আচরণ: তারাগঞ্জে নবনির্বাচিত এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম

রংপুর–২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন,