ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে—এমনই এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তারের পর লাতিন আমেরিকার এই দেশটির জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতে চলে আসাকে নিজের বড় জয় হিসেবে দেখছেন তিনি।
চলতি সপ্তাহে এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল থেকে বড় অংশ পাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আরও ধনী হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এখন ওয়াশিংটনের জন্য দেশটির তেলের খনিগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এটি কেবল রাজনৈতিক বিজয় নয়, বরং মার্কিন অর্থনীতির জন্য এক বিশাল তকমা।
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেওয়ার পেছনে ট্রাম্পের মূল শর্তই ছিল ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের আগেই রদ্রিগেজ ও তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছিলেন বলে জানা গেছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একটি গোপন বৈঠকের ফাঁস হওয়া ভিডিওতে স্বীকার করেছেন যে, এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, মার্কিন শর্ত না মানলে তাকে ‘বড় মূল্য’ দিতে হবে, যা হবে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোর পরিণতির চেয়েও ভয়াবহ। রদ্রিগেজের মতে, জীবন বাঁচানো এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই তারা ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারিতা লোপেজ মায়ার মতে, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে এই ক্ষমতা হস্তান্তর দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। তিনি মনে করেন, মাদুরোকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সফল হওয়ার পেছনে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা এবং জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লোভনীয় টোপ বড় ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার সরকার প্রকাশ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের সমালোচনা করলেও কার্যক্ষেত্রে ট্রাম্পের দেওয়া সব অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নীতি মেনেই দেশ পরিচালনা করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত হোয়াইট হাউসের হাতেই চলে গেল




