গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতীক বরাদ্দের সময় বসা নিয়ে বিএনপি প্রার্থী (গাইবান্ধা-২) আনিসুজ্জামান খান বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে গাইবান্ধা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নির্ধারিত চেয়ারে বসেন। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে অন্য চেয়ারে বসতে বলেন। ওই চেয়ারে অন্য দলের প্রার্থীরা বসেন। বিষয়টি নিয়ে প্রার্থী আপত্তি জানান এবং তার সমর্থকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আনিসুজ্জামান বাবু রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্দেশে মাইক্রোফোনে বলেন, নিরপেক্ষতার বিষয় প্রথমেই হারিয়েছে। আমি যে চেয়ারে বসেছিলাম, আমাকে সেখান থেকে সরানো হয়েছে। পরে সেই চেয়ারে অন্য প্রার্থীদের বসানো হয়েছে, যা আমার ও দলের জন্য দুঃখজনক এবং অপমানজনক।
তিনি আরও জানান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পলাশবাড়ীতে ২৪ জানুয়ারি জনসভা আয়োজনের সময়ও সময়সূচি ও প্রচার-প্রচারণা নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে।
একই দিনে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৪০ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ৩২ জন দলীয় প্রার্থী এবং ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে একজন মার্ক্সবাদী এবং একজন নারী স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
প্রতীক বরাদ্দের শুরুতে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের ৮, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের ৭ ও গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের ১০ প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়। পরে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ৬ জন এবং গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা–ফুলছড়ি) আসনের ৯ জন প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।
প্রতীক বরাদ্দের সময় স্ব-স্ব আসনের বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং শান্তিপূর্ণ ও নিয়মসম্মত প্রচারণা নিশ্চিত করার জন্য মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন।




