“শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনার নেতৃত্ব দেবে। তাই শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০টায় মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে সকাল সাড়ে ১০টায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেলা সাড়ে ১১টায় যুগলী উচ্চ বিদ্যালয়, দুপুর সাড়ে ১২টায় জামালপুর রাজমোহন বিদ্যাপীঠ এবং দুপুর আড়াইটায় চুপাইর বালিকা বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলুল হক মিলন বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। আপনাদের এলাকার সন্তান ও প্রতিনিধি হিসেবে কালীগঞ্জের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমি আমৃত্যু কাজ করে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আপনাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলুন। তাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।”
এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে পৌঁছালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে সংসদ সদস্যকে বরণ করে নেন।
বেলাই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন উদ্বোধনের কর্মসূচি শেষে বিকেলে বক্তারপুরের ফুলদী এলাকায় ঐতিহাসিক বেলাই বিলে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এমপি ফজলুল হক মিলন।
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমাদের নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার বাড়াতে হবে। শুধু প্রাকৃতিকভাবে মাছের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পোনা অবমুক্ত করতে হবে। এতে একদিকে দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।”
দিনব্যাপী সংসদ সদস্যের এসব কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।