বৃহস্পতিবার,১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরির লোভ দেখিয়ে বিমানবন্দরের চায়ের দোকানের কর্মচারী কে জিম্মি, ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি: কালীগঞ্জে ৪ অপহরণকারী গ্রেপ্তার

ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নোয়াখালীর এক যুবককে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ডেকে এনে জিম্মি, ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (২০ জুন) গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।১।মো. ইমাম হোসেন (৩৮): নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার রুদ্র রামপুর এলাকার মো. আবুল সরকারের ছেলে।২।​মো. ইমরান হোসেন (৩১): কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকার রমিজ উদ্দিনের ছেলে।৩।​মো. তারেক খন্দকার (১৯): কালীগঞ্জ উপজেলার পুনসহি এলাকার মৃত ইব্রাহীম খন্দকারের ছেলে।৪।​মো. আসাদুজ্জামান ওরফে দুলাল (৪০): ছৈলাদী এলাকার আবদুস সালামের ছেলে।

​ভুক্তভোগী যুবকের নাম মো. ফরহাদুল ইসলাম (৩৩)। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ঘাটলা গ্রামের নুরুল হুদার ছেলে এবং ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি চায়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন।                              পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, বিমানবন্দরে কর্মরত থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি ইমাম হোসেনের সঙ্গে ফরহাদুলের পরিচয় হয়। এরপর থেকেই ইমাম তাকে ভালো বেতনের চাকরির টোপ দিয়ে আসছিলেন। গত ১৬ জুন সকালে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ইমাম জানান যে চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে এবং ফরহাদুলকে টঙ্গীতে আসতে হবে।সরল বিশ্বাসে ফরহাদুল টঙ্গীতে গেলে তাকে কৌশলে কালীগঞ্জের ঘোড়াশাল ব্রিজের নিচে আসতে বলা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সিএনজিযোগে দেওপাড়া এলাকায় পৌঁছালে, একটি অজ্ঞাত সিএনজিতে চালকসহ দুজন এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি নির্জন বাগানবাড়িতে জিম্মি করে।

​সেখানে তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণকারীরা তার ওপর মেতে ওঠে নৃশংস নির্যাতনে। চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি ও স্টিলের পাইপ দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি তার ডান পায়ের হাঁটুতে চাপাতির কোপ দেওয়া হয় এবং দুই হাতে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

​ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে ভুক্তভোগীর ভাই মো. জাহিদুল ইসলাম এক লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও অপহরণকারীরা পুরো টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। তারা পরিবারের সদস্যদের ফোন করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিন দফায় বিকাশের মাধ্যমে মোট ১৫ হাজার টাকা পাঠায় পরিবার।

​দুই দিন আটকে রাখার পর ১৮ জুন রাতে ফরহাদুলকে আসামি ইমরান হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও মারধর করে তাকে বলা হয়, “আজ রাতই তোর জীবনের শেষ রাত।”১৯ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অপহরণকারীরা ফরহাদুলকে অটোরিকশাযোগে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা শামীম সঙ্গীয় ফোর্সসহ জামালপুর এলাকায় ডিউটিরত অবস্থায় অটোরিকশাটি সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন। ঘটনাস্থল থেকেই ভুক্তভোগীসহ তিন আসামিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তল্লাশিতে আসামিদের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত ফরহাদুল ইসলামকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

​পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ২০ জুন রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে চার নম্বর আসামি মো. আসাদুজ্জামান দুলালকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯ জুন কালীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২১(৬)২৬)।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় জড়িত চার আসামিকে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন