কাঁচা পাট রপ্তানিতে শর্ত আরোপ করে রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদ ও বকেয়া বেতনের দাবিতে খুলনায় পাটশ্রমিকরা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরের দৌলতপুরে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ করে তারা।
খুলনার দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ব্যানারে শ্রমিকরা নগরের রেলিগেট মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা বিজেএ ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এসময় সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিজেএ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করেন এবং কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।
এতে সেখানে চলমান সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে আসা পাটব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পাট ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এর ফলে প্রায় ৯ মাস ধরে দেশের প্রায় ৪০টি জুট মিল বন্ধ রয়েছে। এতে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
তারা অবিলম্বে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সাবেক পাট উপদেষ্টাকে গ্রেপ্তার এবং বর্তমান পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন শ্রমিকরা।
এদিকে একই সময়ে বিজেএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁচা পাট উদ্বৃত্ত থাকে। সেই উদ্বৃত্ত পাট রপ্তানি করে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো। কিন্তু কাঁচা পাট রপ্তানিতে শর্ত আরোপের ফলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিজেএ নেতারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁচা পাট উদ্বৃত্ত রয়েছে। তারপরও নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে রপ্তানিতে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে দেশের পাট খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন পাট ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, দ্রুত কাঁচা পাট রপ্তানি শুরু না হলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।



